সালাদ, ডাল, মাছ বা ভর্তায় ধনেপাতা না হলে চলে?

blogImage

সালাদ, ডাল, মাছ বা ভর্তায় ধনেপাতা না হলে চলে?

সালাদ, ডাল, মাছ বা ভর্তায় ধনেপাতা না হলে চলে?

শীতের রেশ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ধনেপাতাও উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে দাম একটু বেশি হলেও এর কদর বেড়েছে ক্রেতাদের কাছে। প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ স্বাদ বাড়ানোর এই সবজিতে অন্তত ১১ ধরনের তেল (এসেনশিয়াল অয়েল), ছয় ধরনের অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য উপকারী উপাদান রয়েছে।

 

কী কী উপকার করে: ধনে পাতায় সিনিওল এসেনশিয়াল অয়েল ও লিনোলিক অ্যাসিড রয়েছে। এই দুটি উপাদান বাতব্যথা ও প্রদাহ কমায়। এতে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও হাড়ের ফোলা কমে।

ধনেপাতায় রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক, ছত্রাকনাশক ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান। এর ফলে ধনেপাতা একজিমাসহ ত্বকের নানা রোগ সারাতে সাহায্য করে। ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখে।

এতে থাকা লিনোলিক, স্টিয়ারিক এবং অ্যাসকরবিক অ্যাসিড শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি যকৃত সুস্থ রাখে এবং ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ধনেপাতায় থাকা ক্যালসিয়াম আয়ন এবং অ্যাসেটিকোলিন উপাদান শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। মুখের আলসার দূর করতেও সহায়তা করে। প্রচুর পরিমাণে লোহা থাকায় এটি রক্তশূন্যতাও দূর করতে সাহায্য করে। অ্যান্টিহিস্টামিন উপাদান থাকায় অ্যালার্জির ক্ষতিকর প্রভাব দূর করে এটি। ধনে পাতায় উপস্থিত ডডেসিনাল উপাদান খাবারের কারণে সৃষ্ট সালমোনেলা রোগ উপশম করে।

প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে বলে এটি হাড় মজবুত ও সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে। এতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি ও ফসফরাস থাকে। এর কারণে চোখও ভালো থাকে। ধনেপাতার জীবাণুনাশক উপাদান চোখ ওঠার মতো ছোঁয়াচে রোগ থেকে চোখকে রক্ষা করে। এ ছাড়া এটি শরীরের ইনসুলিন নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

সতর্কতা: ধনেপাতা অবশ্যই পরিমাণমতো খেতে হবে। প্রচুর রাসায়নিক উপাদান থাকায় অতিরিক্ত ধনেপাতা খেলে যকৃতের সমস্যা, ডায়রিয়া ও অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে সূর্যরশ্মির সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।

লেখক: প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল।